সৌরবিদ্যুতে ২৩ ঘণ্টার লোডশেডিং! – MICRO SOLAR ENERGY
Responsive image
Article

সৌরবিদ্যুতে ২৩ ঘণ্টার লোডশেডিং!

সৌরবিদ্যুতে-২৩-ঘণ্টার-লো

http://www.dhakatimes24.com/2019/01/07/108529/%E0%A6%B8%E0%A7%8C%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A7%81%E0%A6%A4%E0%A7%87-%E0%A7%A8%E0%A7%A9-%E0%A6%98%E0%A6%A3%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%B2%E0%A7%8B%E0%A6%A1%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%A1%E0%A6%BF%E0%A6%82

দিনের ১২ ঘণ্টা পরিবেশবান্ধব সৌরবিদ্যুতের আলোয় আলোকিত থাকার কথা ছিল আটটি গ্রামের ৪০০ পরিবারের ঘর। অথচ মাত্র একঘণ্টা বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারছেন গ্রাহকরা। আবার সৌরবিদ্যুৎ পাওয়ায় চুক্তি অনুসারে পাবেন না পল্লীবিদ্যুৎও, যদিও পল্লীবিদ্যুতের মতোই সংযোগ ফিসহ অন্য খাতগুলোতেও অর্থ ব্যয় করেছেন তারা।

 

ফলে রাতের বেলা পুরোপুরি অন্ধকারে থাকা ও দিনে চরম দুর্ভোগ পোহানোসহ নানাবিধ সমস্যায় রয়েছেন ওই ৪০০ পরিবারের হাজারো মানুষ।

 

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার হবিবপুর ইউনিয়নের আগুয়াই গ্রামে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের আওতায় ২৮ কোটি ৭০ লাখ ৪১ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্রটি। এর মধ্যে ২০ কোটি ৩০ লাখ টাকা দিয়েছে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড ও ৮ কোটি ৪০ লাখ ৪১ হাজার টাকা দিয়েছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। গত বছরের ২৫ নভেম্বর ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

 

দেড় বছর পরও গ্রাহকদের বিদ্যুৎসেবা দিতে হিমশিম খাওয়া সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষের দাবি, উৎপাদিত বিদ্যুতের চেয়ে চাহিদা বেশি। তাই লোডশেডিং করতে হচ্ছে। আর গ্রাহকদের অভিযোগ, পিডিবি ও স্থানীয় সুবিধাভোগী কমিটির (বিএমসি) কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবহেলা ও সিদ্ধান্তহীনতায় অতিপ্রয়োজনীয় প্রকল্পটি মুখ থুবড়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

সরেজমিনে জানা গেছে, দুর্গম হাওরে আগুয়াই গ্রামের আগুয়াই-শ্বাসখাই বাজারের মধ্যবর্তী স্থানে চার একর জমিতে নির্মিত প্রকল্পটিতে দুই হাজার ৩২২টি সোলার প্যানেল ও ৫৪০টি ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে। পল্লীবিদ্যুতের নিয়মে মিটার স্থাপিত হওয়ায় প্রত্যেক গ্রাহককে সংযোগ পেতে ওই সমিতির মতোই প্রাক্কলিত ব্যয় ৭০৩ টাকা ও নিরাপত্তা জমা ৩৭৫ টাকা দিতে হয়েছে।

 

গ্রাহক সাজিদ মিয়া ও রহিম উদ্দিনের অভিযোগ, দিনে ১২ ঘন্টা বিদ্যুৎ দেয়া ও লোডশেডিংয়ের হাত থেকে বাঁচানোর আশ্বাসে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি স্থাপিত হয়েছিল। বলা হয়েছিল, পল্লীবিদ্যুতের মতোই সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করা যাবে। এ কারণে আশপাশের গ্রামগুলোতে পল্লীবিদ্যুৎ দেয়া হলেও সৌরপ্রকল্পের আওতাভুক্ত গ্রামগুলোতে দেয়া হবে না বলে চুক্তিবদ্ধ করা হয়েছে তাদেরকে। এখন দেখা যাচ্ছে, ১২ ঘণ্টার বদলে মাত্র এক ঘন্টা বিদ্যুতের আলো পাচ্ছেন তারা। ফলে বিদ্যুতের অন্যান্য সুবিধা পাওয়া দূরের কথা, দিনের ২৩ ঘণ্টাই বাতি জ্বালানোও সম্ভব হচ্ছে না।

 

মৌরাপুর গ্রামের শিশু দাস বলেন, বিকাল ৫টা থেকে ৬টা পর্যন্ত বিদ্যুত সরবরাহের সময় নির্ধারিত রয়েছে। এরপরে অন্ধকারে থাকতে হয়।

 

গ্রাহকদের অভিযোগ, তাদের কোটি কোটি টাকায় নির্মিত এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি তাদেরই কোনো কাজে আসছে না।

 

বিদ্যুৎ বিভাগের দিরাই-শাল্লার আবাসিক প্রকৌশলী মো. আওলাদ হোসেন বলেন, ‘আকাশে রোদ না থাকলে সৌরপ্যানেলের কিছু সমস্যা হয়। এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাইনি।  পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’