সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান কোথায় – MICRO SOLAR ENERGY
Responsive image
Article

সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান কোথায়

https://www.somoynews.tv/pages/details/190975/%E0%A6%B8%E0%A7%8C%E0%A6%B0-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A7%81%E0%A7%8E-%E0%A6%89%E0%A7%8E%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A6%A8%E0%A7%87-%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%85%E0%A6%AC%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A5%E0%A6%BE%E0%A6%A8-%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%A5%E0%A6%BE%E0%A7%9F

সৌর বিদ্যুৎ কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া (এসপিসিআই)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক যতীন্দ্রনাথ সোয়েন সম্প্রতি জানিয়েছেন, ২০২২ সালের মধ্যে সৌর বিদ্যুতের ১০০ গিগাওয়াটের উত্পাদন লক্ষ্য অর্জনের পথে আছে ভারত।

২০১৫ সালে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানতে চেয়েছিলেন, ভারত কবে ১০০ গিগওয়াট সোলার পাওয়ার উৎপাদন করতে পারবে? সে সময় দেশটি মাত্র ২.৮ গিগাওয়াট সোলার এনার্জি তৈরির ক্ষমতা রাখতো।

অর্থাৎ মাত্র ৭ বছরে দেশটি সে সময়কার চায়ে ৫০ গুণেরও বেশি সৌরশক্তি উৎপাদনের স্বপ্নই শুধু দেখেনি, বরং সে স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে গেছে শতভাগ।

প্রাকৃতিক কারণেই ভারতের মতো বাংলাদেশেও সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ এখানে বছরে তিনশ’ দিনেরও বেশি রোদ থাকে। ১৯৯৯ সালে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে সোলার প্যানেল আনা হয়।

বাংলাদেশে সৌর বিদ্যুৎ সম্ভাবনাকে বাস্তব করতে ২০০৩ সাল থেকে কাজ করে আসছে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। তাদের মধ্যে ইডকল, গ্রামীণ শক্তি, ব্র্যাক, সৃজনী, ও ব্রিজ অন্যতম। ইনস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড (ইডকল) নামের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এ সেক্টরে বিশ্বব্যাংক সামগ্রিক অর্থায়ন করে থাকে। সরকারি মালিকানার এ প্রতিষ্ঠান সারাদেশে সৌর বিদ্যুৎ প্রসারের জন্য অর্থায়ন ও কারিগরি সহযোগিতা দিয়ে আসছে।

গত কয়েক বছরে বাংলাদেশে সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহাকারীর সংখ্যা বেড়েছে কয়েক গুণ। বিশেষ করে গ্রাম্য এলাকায় এ হার আরও বেশি। সরকারের উদ্যোগে বর্তমানে মানুষ এ বিষয়ে অনেক বেশি সচেতন হয়ে উঠেছে। ফলে বিদ্যুতের যোগান পুরোপুরি পেতে বাড়িতে সৌর প্যানেল লাগাচ্ছেন তারা। বর্তমানে দেশের দুই কোটিরও বেশি মানুষ সৌর বিদ্যুতের আওতায় এসেছেন।

২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, ২০২০ সালের মধ্যে মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের ১০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎস থেকে উৎপাদন ও সরবরাহ করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার কাজ করছে।

সরকারের ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের তথ্যমতে, বাংলাদেশে গ্রামাঞ্চলে ৬০ লাখের বেশি গৃহস্থালীতে ইতোমধ্যেই সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হচ্ছে।

বাংলাদেশে এমন পটভূমিতে প্রথমবারের মতো সরকারিভাবে স্থাপিত একটি সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে গেল বছরের ১১ সেপ্টেম্বর জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়। রাঙামাটির কাপ্তাই-এ অবস্থিত এ সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পার্বত্য জেলা রাঙামাটির কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র এলাকায় ১৯ একর জায়গা নিয়ে এ সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অবস্থান, যাতে প্যানেলের সংখ্যা ২৪ হাজারের মতো। প্রায় সাড়ে সাত মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে কেন্দ্রটি।

সে সময় বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, আমরা ২০৪১ সাল পর্যন্ত কোথা থেকে কীভাবে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করব তার একটি চিত্র আমাদের রয়েছে। যদি ৪১ সালকে ধরি, ওই সময়ে আমরা সব মিলিয়ে ৬০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে চাই। আমাদের টার্গেট হলো ২০২১ সালে ২৪ হাজার মেগাওয়াট। তার দশ শতাংশ সৌর বিদ্যুৎ থেকে উৎপাদন করব।

৩০ আগস্ট ২০১৯ তারিখে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, গ্রামীণ এলাকায় সৌর বিদ্যুতের প্রাপ্তি বাড়াতে নতুন সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। এজন্য সে সময় সংস্থাটির সঙ্গে একটি চুক্তিও হয় বাংলাদেশ সরকারের। চুক্তির আওতায় বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে ১৮ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা) ঋণ ও অনুদান পাবে বাংলাদেশ।

বিশ্বের সবচেয়ে পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ-এর একটি হচ্ছে সৌর বিদ্যুৎ। তবে, আজও এ দেশে এ জ্বালানি খাতটি শক্তভাবে দাঁড়াতে পারেনি। বাংলাদেশে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের সমস্যাটি কোথায়? প্রশ্ন ওঠে ভারত যদি মাত্র ৭ বছরে ১০০ গিগাওয়াটের মতো বিশাল পরিমাণ সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা ভাবতে পারে, বাংলাদেশ কেন পিছিয়ে পড়ছে?

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানিয়েছেন, গৃহস্থালীর বাইরে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন বা জাতীয় গ্রিডে দেয়ার জন্য যে সংখ্যক প্যানেল বসাতে হয় তাতে প্রচুর জমি দরকার। বাংলাদেশে এমনিতেই কৃষি জমির সঙ্কট। সেই সঙ্গে বাংলাদেশে জমির দামও অনেক বেশি।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অব্যবহৃত জমি, বাড়ির ছাদকে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জায়গা হিসেবে কাজে লাগানো যেতে পারে। পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণের বাজেটটাও বাড়ানো দরকার বলে মনে করেন তারা।