সেচে ব্যবহার হবে সৌর বিদ্যুৎ – MICRO SOLAR ENERGY
Responsive image
Article

সেচে ব্যবহার হবে সৌর বিদ্যুৎ

https://sarabangla.net/post/sb-340204/

জোসনা জামান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহারের মাধ্যমে সেচ কাজে নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ‘ভূ-উপরিস্থ পানির সর্বোত্তম ব্যবহার ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে বৃহত্তর রংপুর জেলায় সেচ সম্প্রসারণ’ নামের একটি প্রকল্প হাতে নিচ্ছে কৃষি মন্ত্রণালয়। এতে খরচ ধরা হয়েছে ২৫০ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে খাল, বিল, পুকুর পুনঃখননের মাধ্যমে ভূ-উপরিস্থ পানি সংরক্ষণ করে ১০ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে সৌর বিদ্যুতের মাধ্যমে সেচ কার্য পরিচালনা করে প্রতি বছর অতিরিক্ত প্রায় ৮৩ হাজার ৪০০ মেট্রিকটন ফসল উৎপাদন হবে। এছাড়া জলাবদ্ধতা দূরীকরণের মাধ্যমে জমি কৃষি উপযোগী হবে।

প্রকল্পের মূল কার্যক্রম হচ্ছে- ২৬টি খাল পুনঃখনন, ১১টি বিল পুনঃখনন, ১১৮টি পুকুর পুনঃখনন, ১০০টি বিদ্যুৎ চালিত ২-কিউসেক লো-লিফ্ট পাম্প স্থাপন ও বিদ্যুৎ সংযোগ, ৩০টি সৌরশক্তি চালিত ২-কিউসেক এলএলপি স্থাপন, বিদ্যুৎ সৌরশক্তি চালিত এলএলপির জন্য ভূ-গর্ভস্থ সেচনালা নির্মাণ, ৫০টি সৌরশক্তি চালিত পাতকূয়া খনন ও পাম্প স্থাপন, ১০টি সাবমার্জড ওয়্যার, ৭০টি ফুট ওভারব্রিজ ক্যাটল ক্রসিং এবং এক ভূমি অধিগ্রহণ।

বিজ্ঞাপন

পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা সারাবাংলাকে বলেন, প্রকল্পটি প্রস্তাব পাওয়ার পর চলতি বছরের ২৯ এপ্রিল প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় দেওয়া সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পুনর্গঠন করা হয়েছে। এটি এখন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপন করা হবে। একনেকে অনুমোদন পেলে চলতি বছর থেকে ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ)।

কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রকল্প এলাকায় অনেক নদী ও খাল রয়েছে। আর এগুলো দীর্ঘদিন সংস্কার বা পুনঃখনন না করার ফলে ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষার পানি সংরক্ষণ করে শুস্ক মৌসুমে সেচ কাজে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এছাড়া বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। খালগুলো পুনঃখনন করা হলে পানি ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে, যা সেচ কাজে ব্যবহারের পাশাপাশি বর্ষা পরবর্তী মৌসুমে জলাবদ্ধতা দূর করবে। প্রকল্প এলাকায় অনেক খাস পুকুর ও বিল রয়েছে; যা পুনঃখনন করে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে সম্পূরক সেচ ও মৎস্য চাষে ব্যবহার করা যাবে। এতে ভূ-গর্ভস্থ পানি ব্যবহারের ওপর চাপ কমে যাবে। এছাড়া পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। সেজন্য প্রকল্প এলাকায় ১০ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে ভূ-উপরিস্থ পানি নির্ভর সেচ সম্প্রসারণের মাধ্যমে ফসলের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হযেছে।

রংপুর বিভাগের ৫টি জেলার বিভিন্ন উপজেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। উপজেলাগুলো হচ্ছে- রংপুর জেলার রংপুর সদর, পীরগাছা, কাউনিয়া, মিঠাপুকুর, পীরগঞ্জ, বদরগঞ্জ, তারাগঞ্জ এবং গংগাচড়া। কুড়িগ্রামের কুড়িগ্রাম সদর, ভুরুঙ্গামারী, নাগেশ্বরী, ফুলবাড়ি, রাজারহাট, উলিপুর, চিলমারী, রাজীবপুর ও রৌমারী। নীলফামারী জেলার নীলফামারী সদর, সৈয়দপুর, ডোমার, ডিমলা, জলঢাকা ও কিশোরগঞ্জ। গাইবান্ধা জেলার গাইবান্ধা সদর, সুন্দরগঞ্জ, সাদুল্যাপুর, পলাশবাড়ি, ফুলছড়ি, গোবিন্দগঞ্জ এবং সাঘাটা।  লালমনিরহাট জেলার লালমনিরহাট সদর, আদিতমারী, কালিগঞ্জ, হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানি সম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য জাকির হোসেন আকন্দ প্রতিষ্ঠানটির মতামত দিতে গিয়ে বলেন, ‘ভূ-উপরিস্থ পানি নির্ভর সেচ কার্যক্রম সম্প্রসারণের জন্য প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় বিদ্যুৎ ছাড়াও সৌরশক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সেচ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রকল্প এলাকায় ফসলের উৎপাদন বাড়বে; যা খাদ্য স্বযংসম্পূর্ণতা অর্জন ধরে রাখাসহ দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।