পরিবেশ সুরক্ষায় নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার – MICRO SOLAR ENERGY
Responsive image
Article

পরিবেশ সুরক্ষায় নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার

https://risingbd.com/campus-news/333761

ব্যবহারে দেখা যায়, প্রত্যেকটি ক্রিয়ারই একটি প্রতিক্রিয়া রয়েছে। নতুন কিছু আবিষ্কার মানেই যে যোগ হওয়া তা নয়, কিছু জিনিস বিয়োগও হয়। কিছু কিছু বিয়োগ বা বিলুপ্তি চোখে দেখা যায়, আবার কিছু দেখা যায় না। যেগুলো দেখা যায় না, সেগুলোর বেশির ভাগই পরিবেশের উপর প্রভাব ফেলে। এজন্য নতুন আবিষ্কারের চেয়ে বেশি জরুরি, পুরাতনকে কীভাবে নবায়ন করে ব্যবহার করা যায়।

বর্তমানে সময়োপযোগী এক প্রকার শক্তি হলো নবায়নযোগ্য শক্তি বা জ্বালানি। নবায়নযোগ্য জ্বালানি এমন শক্তির উৎস, যা স্বল্প সময়ের ব্যবধানে পুনরায় ব্যবহার করা যায় এবং শক্তির উৎসটি নিঃশেষ হয়ে যায় না। বিভিন্ন প্রাকৃতিক উৎস যেমন- সৌরশক্তি, হাইড্রো, জিয়োথারমাল, ওয়েভ এবং টাইডাল এনার্জি, বায়ুপ্রবাহ, জলপ্রবাহ, জৈবশক্তি , ভূ-তাপ, সমুদ্র তরঙ্গ, সমুদ্র-তাপ, জোয়ার-ভাটা, শহুরে আবর্জনা, হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল ইত্যাদি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়।

নবায়নযোগ্য শক্তি বর্তমানে বিশ্বে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। অধিকাংশ দেশ তাদের বিদ্যুৎ ও জ্বালানির চাহিদা মেটাতে নবায়যোগ্য শক্তি ব্যবহারের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে। বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎসের মধ্যে সৌরশক্তি সবচেয়ে সম্ভাবনাময় এবং বায়োগ্যাস ও বায়োমাসের রয়েছে সীমিত ব্যবহার।

বাংলাদেশ প্রতিদিন গড়ে ৪.৫ কিলোওয়াট আওয়ার/বর্গমিটার সৌর বিকিরণ লাভ করে। নবায়নযোগ্য শক্তি সমূহ পরিবেশ বান্ধব এবং কার্বন নিঃসরণ মুক্ত। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং একটি টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থায় পৌঁছানোর জন্য জাতিসংঘ ও বিশ্বব্যাপী পরিবেশবাদী আন্দোলনসমূহ নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারে উৎসাহ অব্যহত রেখেছে। আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে সিলেটে প্রথম সোলার হোম সিস্টেম স্থাপনে বেসরকারি উদ্যোগ সহায়ক ভূমিকা পালন করে। পরবর্তীতে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল) কর্তৃক সোলার হোম সিস্টেম (এসএইচএস) কর্মসূচি ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হয়।

১৯৯৬ সালে এসএইচএস চালু হওয়ার পর থেকে এটি বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় নবায়নযোগ্য জ্বালানি কর্মসূচি। এ পর্যন্ত প্রায় ৪.৫ মিলিয়ন সোলার হোম সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইডকল এর মাধ্যমে সরকার কর্তৃক গৃহীত সমন্বিত কর্মসূচির কারণে এর সংখ্যা বাড়ছে। বিশ্বে জীবাশ্ম জ্বালানির অধিকাংশ ব্যয় হয় বিদ্যুৎ উৎপাদনে, মোটরযান চলাচলে এবং বাসা বাড়ির তাপ-উৎপাদনে।

বর্তমানে বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য ঊৎস থেকে ২৩৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। সরকারের পরিকল্পনা ২০২০ সালে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ১০ শতাংশ নবায়নযোগ্য ঊৎস থেকে নেবে। এজন্য নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার করে টেকসই বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, টেকসই যানবাহন ব্যবস্থা এবং গ্রিন টেকনোলজি সমৃদ্ধ শক্তি সাশ্রয়ী গৃহস্থালি পণ্য প্রবর্তনে আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন গবেষণা প্রক্রিয়াধীন আছে। প্রচলিত বিদ্যুৎ সরবরাহবিহীন জায়গাগুলোতে জনসাধারণ নবায়নযোগ্য জ্বালানির উপর নির্ভরশীল। রান্নার জন্য বায়োমাস এবং শস্য এবং কাপড় শুকানোর জন্য সৌরশক্তি এবং বায়ু ব্যবহার একটি ঐতিহ্যবাহী উপায়, যাতে হাজার হাজার বছর ধরে বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহৃত হচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশে বিভিন্ন শ্রেণির নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহৃত হচ্ছে।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, পানি বিদ্যুৎ, সোলার পিভি ব্যবহার করে সৌর বিদ্যুৎ, বায়ু বিদ্যুৎ, বাতাসের গতি, গোবর এবং পোল্ট্রি বর্জ্য ব্যবহার করে বায়োগ্যাস, ধানের তুষ এবং আখের ছোবড়া, বর্জ্য, , শিল্প প্রক্রিয়ার অব্যবহৃত তাপ থেকে বিদ্যুৎ এবং জ্বালানি উৎপাদন, পৌর বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ।

সোলার হোম সিস্টেম একটি বিশাল এবং বিশ্বস্ত সিস্টেম এবং এর সফলতার জন্য অনন্য গ্রামীন ক্রেডিট এবং ‘কস্ট বাই ডাউন’ সিস্টেমের মাধ্যমে গ্রামীণ বাড়িগুলো এর আওতায় এসেছে। সোলার হোম সিস্টেম এর সাফল্যে উৎসাহিত হয়ে সরকারি কয়েকটি কর্মসূচি যেমন- সৌর সেচ, সৌর মিনি/মাইক্রো গ্রিড, সোলার পার্ক, সোলার রুফটপ, সোলার বোটিং ইত্যাদি শুরু করেছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির অন্যতম লক্ষ্য হলো গ্রামীণ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা এবং ডিজেলের উপর নির্ভরশীলতা কমানো, যার ফলে কমবে কার্বন নিঃসরণ এবং সরকারি ভর্তুকি। নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাস্তবায়নকারী এবং বিনিয়োগকারীদেরকে সরকার বিভিন্ন প্রকার প্রণোদনা প্রদান করছে। সরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠান যেমন- বাংলাদেশ ব্যাংক, ইডকল এবং বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থায়ন কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়েছে।

তাছাড়া কিছু নবায়নযোগ্য জ্বালানি পণ্য যেমন- সোলার প্যানেল, সোলার প্যানেল প্রস্তুতের উপাদান, চার্জ কন্ট্রোলার, ইনভার্টার, এলইডি লাইট, সৌরচালিত বাতি এবং বায়ু বিদ্যুৎকেন্দ্রের উপর সরকার শুল্ক অব্যাহতিমূলক প্রণোদনা প্রদান করেছে। গত কয়েক বছরে জীবাশ্ম জ্বালানির নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার ধরণ এবং তাদের ক্রমবর্ধমান খরচ নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারকে তীব্রতর করেছে, যা জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং কার্বন-ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ হ্রাস করার অন্যতম উপায়।

প্লাস্টিক হলো পলিথিনের মতো বিস্তৃত জৈব পলিমার থেকে তৈরি একটি সিন্থেটিক উপাদান। বিশ্বখ্যাত জুতা উৎপাদন প্রতিষ্ঠান এডিডাস সমুদ্র থেকে প্রাপ্ত প্লাস্টিক বর্জ্য দিয়ে জুতা উৎপাদন করে বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করার এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে।  বাচ্চাদের খেলনাসামগ্রী তৈরির ক্ষেত্রে প্লাস্টিকের বিকল্প নেই। কারণ, প্লাস্টিকের খেলনা সহজে ভাঙে না এবং কম দামেই ছোটখাটো খেলনা পাওয়া যায়।

দেশীয়ভাবে টেকসই কৃষিকাজের অভ্যাসের অভ্যন্তরে মেইনফ্রেম পদ্ধতিতে প্লাস্টিকালচার ভালোভাবে সমন্বয় করা যেতে পারে। পণ্যটি টেকসই হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার জন্য এটি অর্থনৈতিক, সামাজিকভাবে ও পরিবেশগত, টেকসই হতে হবে। এই ভাবেই জৈব প্লাস্টিক ইতিবাচক অবদান রাখে।

জৈব প্লাস্টিকের ব্যবহার, সহজলভ্যতা যেমন দৈনন্দিন জীবনে আর্থিক সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে, ঠিক তেমনি আমাদের টেকসই জৈব প্লাস্টিক উৎপাদনের নবায়নযোগ্য ঊৎস হিসেবে ভূমিকা রাখে।