সৌর বিদ্যুতের বহুল ব্যবহার – MICRO SOLAR ENERGY
Responsive image
Article

সৌর বিদ্যুতের বহুল ব্যবহার

সৌর-বিদ্যুতের-বহুল-ব্যবহ

http://web.dailyjanakantha.com/details/article/380662/%E0%A6%B8%E0%A7%8C%E0%A6%B0-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A7%81%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A7%81%E0%A6%B2-%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0/

সৌর শক্তি প্রয়োগের আরও একটি সাফল্যের কথা জানা গেল। এই শক্তি ব্যবহার করে রাস্তায় গাড়ি চলছে। এবার সৌর শক্তি ব্যবহার করে নৌকা চালানো হবে। ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলক সোলার বোট প্রকল্প কাজ শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার জনকণ্ঠে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা গেল, এবার সৌর বিদ্যুতে চলবে নৌকা। সারাদেশে প্রায় ১০ লাখ ছোট বড় নৌকা চলে। এর মধ্যে কিছু ইঞ্জিনচালিত নৌকা রয়েছে যেগুলো চালাতে জ্বালানির প্রয়োজন হয়। এসব নৌযানে সৌর শক্তি ব্যবহার করা যেতে পারে- এমন ধারণা থেকেই এই উদ্যোগ। বিশে^র বিভিন্ন দেশ শৌখিন নৌযানে সৌর শক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। অবশ্য বাণিজ্যিক নৌযানে সৌর শক্তি ব্যবহারের নজির তেমন নেই। তবে নৌযানে রাতের আলো জ্বালাতে সৌর প্যানেল ব্যবহার শুরু হয়েছে। বর্তমান উদ্যোগটি সফল হলে বিদ্যুত ও জ্বালানি সাশ্রয়ে দেশ লাভবান হবে তা নিশ্চিত।

টেকসই এবং নবায়নযোগ্য জ¦ালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা) ইতোমেধ্যে দেশের তিনটি স্থানে পাঁচটি নৌকা পরীক্ষামূলকভাবে সৌর শক্তি দিয়ে চালানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে চুক্তি করেছে। এর মধ্যে রাজধানীর হাতিরঝিলে একটি নৌকা রয়েছে। আর এর বাইরে সোনারগাঁওয়ের পানাম নগরে দুটি এবং চট্টগ্রামের ফয়েজ লেকে দুটি সৌরচালিত নৌকা রয়েছে। জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সৌর শক্তি ব্যবহার করে নৌকা চালানো যায় কিনা তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেয়ার পর স্রেডা এই প্রকল্প হাতে নেয়। পরীক্ষামূলকভাবে যে নৌকাগুলো চালানো হচ্ছে সেগুলো সবই স্টিল দিয়ে নির্মিত। এ কারণে নৌযানগুলো ভারি হওয়াতে বেশি শক্তির অপচয় হয়। তবে ফাইবার দিয়ে নৌকাগুলো তৈরি করা হলে কম শক্তি খরচে চালানো সম্ভব। ভবিষ্যতে এই সুবিধার কথাও ভাবা হচ্ছে। এখন নদীতে যেসব ছোট নৌযান চলে তার সবই শ্যালো ইঞ্জিনে। জ¦ালানি হিসেবে ডিজেল ব্যবহার করা হয়। এতে শব্দ এবং পরিবেশ দূষিত হয়। তবে সোলার প্যানেল ব্যবহার করলে দূষণ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

সৌর বিদ্যুত নানা ক্ষেত্রে নানাভাবে প্রয়োগ বা ব্যবহার হয়ে আসছে। প্রতিমাসে প্রায় ৮০ হাজার পরিবারের ঘরে সোলার প্যানেল বসানোর কাজটি বর্তমানে চলমান। যেখানে পল্লী বিদ্যুত নেই সেখানে গৃহস্থ ও বাড়ির ঘরের চালার ওপরে সূর্যের আলো ধরে রাখার প্যানেল স্থাপন করার কাজ করছে সরকার ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলো। কোথাও আবাদী জমির ধারে ঘর বানিয়ে প্যানেল বসিয়ে সৌর বিদ্যুতে সেচ কাজও চলছে। সব মিলিয়ে সৌর বিদ্যুতের বিপুল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ভবিষ্যতে বাণিজ্যিকভাবে সারাদেশে এই উদ্যোগ ছড়িয়ে দেয়া সম্ভব।

পৃথিবীর সবচাইতে বেশি সৌরবিদ্যুত প্যানেল স্থাপনকারী দেশ বাংলাদেশ। জানা গেছে, বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির উল্লেখযোগ্য অংশই আসে সৌরশক্তি থেকে। এতে দেশের প্রায় সোয়া কোটির মতো মানুষ উপকৃত হচ্ছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক নিরাপত্তার পাশাপাশি শিক্ষা ক্ষেত্রেও অবদান রাখছে এই সৌরশক্তি। এর বিস্তারে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করছে সরকারের বর্তমান নীতি ও প্রচেষ্টা। সৌরবিদ্যুতের জনপ্রিয়তা বেশি এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশসমূহে বিশেষ করে চীন, ভারত ও বাংলাদেশে। বাংলাদেশে বছরে গড়ে প্রায় তিনশত দিন পর্যাপ্ত সূর্যালোক থাকে। সেই হিসাবে প্রতিদিন প্রায় পাঁচ কিলোওয়াট ঘণ্টা সৌরশক্তি এই দেশের প্রতি বর্গমিটার জমিতে আলো দেয়। এই সৌরশক্তির মাত্র ০.০৭ শতাংশ শক্তিতে রূপান্তর করা গেলে বাংলাদেশের বিদ্যুতের সিংহভাগ চাহিদা পূরণ সম্ভব। দেশ উপযোগী সাশ্রয়ী মূল্যে সোলার বিদ্যুত উৎপাদন করা সম্ভব হলে সেটি হবে বড় ধরনের সাফল্য। কারণ ব্যক্তি, পরিবার বা প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন মিটিয়ে এই সৌরবিদ্যুত গণমানুষের ব্যবহারের জন্য সরবরাহ করা যাবে। তাই সবদিক বিবেচনা করে মানুষের মধ্যে সৌরবিদ্যুত সম্পর্কে আগ্রহ সৃষ্টি এবং প্রয়োজনীয় প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হলে তা দেশের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে।